বিশেষ প্রতিবেদক: ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে “সফল সংগঠন” হিসেবে স্বীকৃতি ও পুরস্কার পাওয়ায় ‘সিলেট আর্ট এন্ড অটিজম স্কুল’কে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়েছে গ্রীন ডিজেবল ফাউন্ডেশন (জিডিএফ)। গত ১৮ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ জিডিএফ কার্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী ও সুমধুর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সম্মাননা পত্র পাঠ এবং সিলেটের ঐতিহ্য ও ভূমি নিয়ে গৌরবময় গান পরিবেশন অনুষ্ঠান স্থলকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
স্বপ্নের যাত্রা ও বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা: অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অটিস্টিক ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১২ সালে সিলেট জেলা সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘সিলেট আর্ট এন্ড অটিজম স্কুল’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০১৫ সাল: স্কুলটির অনন্য কার্যক্রমের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এটিকে বিশেষ স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৯ সাল: সরকার দেশের বিশেষায়িত বেসরকারি উদ্যোগগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে ‘বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’ প্রণয়ন করে। এই নীতিমালার অধীনে দেশের যে ৭৪টি বিদ্যালয়কে বিশেষ বিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম এই স্কুলটি। অবস্থান ও কার্যক্রম: সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র কুমারপাড়ায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ শিশুদেরও চারুকলা, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত চর্চার বিশেষ শিক্ষা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন: “সমাজকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। তাদেরকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সিলেট আর্ট এন্ড অটিজম স্কুলের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। জাতীয় পর্যায়ে সফল সংগঠনের পুরস্কার অর্জন করে তারা সিলেটকে গৌরবান্বিত করেছে।” তিনি আরও জানান, গ্রীন ডিজেবল ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাসযোগ্য ভবন নির্মাণে সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে।
অতিথি ও গুণীজনদের উপস্থিতি জিডিএফ-এর উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক বায়জিদ খানের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ, রফিকুল হক (সহকারী পরিচালক, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়), ইকরামুল কবির (সাবেক সভাপতি, সিলেট প্রেসক্লাব ও ব্যুরো প্রধান, সময় টেলিভিশন), বেলাল আহমদ (সভাপতি, এনজিও ফেডারেশন সিলেট), গোলজার আহমদ (সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব), শামছুল বাছিত শেরু (প্রধান পরিচালক, সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদ), হেরন্ড রশিদ চৌধুরী (সভাপতি, সিলেট আর্ট এন্ড অটিস্টিক বিদ্যালয়),আমিন উদ্দিন আহমদ (সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপি)
সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, জিডিএফ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক জাবেদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালটেন্ট আব্দুল কাদের, রাগীব রাবেয়া প্রতিবন্ধী ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষিকা হেপী রানী দে, দৈনিক ঢাকার ডাক-এর সিলেট ব্যুরো চীফ এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, তালুকদার ফাউন্ডেশনের সভাপতি রফিক উদ্দিন, আপাসান ইন্টারন্যাশনালের সমন্বয়কারী স্বর্ণময়ী এবং সাউথ এশিয়া বেতার শ্রোতা ক্লাবের সভাপতি দিদার ইকবাল।
উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট আর্ট এন্ড অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব ইসমাঈল গনি হিমন, জিডিএফ-এর সভাপতি প্রমেশ দত্ত, কোষাধ্যক্ষ দিদার আহমদ, নারী উদ্যোক্তা সাবিলা কান্তা, সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার রেবা, নির্বাহী সদস্য ববি বেগম, শিলন বেগম, পার্থ সারথি দত্ত, শিক্ষক মলয় রায়, সরুপা বেগম, ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আনিস, বেইল শিক্ষক সমিরঞ্জন বিশ্বাস এবং হিসাব রক্ষক মোঃ শাহজাহান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিল তাহমিনা আক্তার মৌমি, খাদিজাতুল কোবরা শিফা, রাদিয়া জান্নাত তালুকদার, আফসানা আক্তার মুন্নী, জুঁই রানী দাস সহ আরও অনেকে। এছাড়াও অভিভাবকদের পক্ষে রোকেয়া বেগম ও সীমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি: আলোচনা সভা শেষে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করায় ‘সিলেট আর্ট এন্ড অটিস্টিক বিদ্যালয়’ কর্তৃপক্ষের হাতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ সম্মাননা স্মারক ও সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন।