ইজারা বহির্ভূত এলাকায় দানব যন্ত্রে বালু উত্তোলন, নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে শতাধিক ঘরবাড়ি!
ইজারা বহির্ভূত এলাকায় দানব যন্ত্রে বালু উত্তোলন, নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে শতাধিক ঘরবাড়ি!
admin
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৬
কালাম সিকদার গোয়াইনঘাট : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইজারা বহির্ভূত স্থানে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।গোয়াইনঘাট তিতারাই, বালি হাওর থেকে শুরু করে বাংলা বাজার, নয়া গাঙের পাড়, নাইন্দা বুধিগাঁও, শিমার বাজার, সানকি ভাঙা ও আনন্দ বাজার এলাকার নদীর দুই পাড়জুড়ে দানবাকৃতির ড্রেজার ও বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ঘনফুট বালুর মজুদ করে রাখা হয়েছে। গত বছর বালি হাওর এলাকায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করেছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও জব্দকৃত সেই বালু এখনো সরকারি নিলামে বিক্রি করা হয়নি বলে জানা যায়। এরই মধ্যে আবার নতুন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পাহাড়ের মতো স্তূপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইজারা বহির্ভূত শিমার বাজার এলাকায় অবৈধভাবে “রয়েলটি” বসিয়ে প্রতি ঘনফুট বালুর বিপরীতে ৩ টাকা ২৫ পয়সা হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সারি-১ ও লেংগুরা বালুমহালের বাইরে থাকা এলাকাগুলো থেকেই ড্রেজার মেশিন ও নৌকার মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এদিকে লাগামহীন বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর দুই তীরের বহু বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, পরিবেশ ধ্বংস করে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় সড়কগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ, অবৈধ রয়েলটি আদায় বন্ধ এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।