বিশেষ প্রতিবেদন: মাঠ প্রশাসনে সাধারণ মানুষ কিংবা সেবাগ্রহীতাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ডাকা নিয়ে বিতর্কের ইতিহাস কম নয়। কখনো ‘আপা’ ডাকায় সাংবাদিককে জরিমানা, আবার কখনো ‘ভাই’ ডাকায় সাধারণ মানুষকে হেনস্তার মতো ঘটনা প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। সরকারি কর্মকর্তাদের এই অনমনীয় মানসিকতা ও অতি-আমলাতান্ত্রিক আচরণ নিয়ে যখন দেশজুড়ে নানা বিতর্ক চলমান, ঠিক তখনই সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কুমকুম নাহার আশাকে নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এই আলোচনার জের ধরেই সাধারণ মহলে ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার শিক্ষা, পারিবারিক পটভূমি ও পূর্ববর্তী কর্মজীবন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে তাঁর চাকরি জীবনের নানা জানা-অজানা অধ্যায়।
মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে প্রশাসন ক্যাডার
পারিবারিক সূত্রে কুমকুম নাহার আশা ময়মনসিংহ সদরের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. ইশতিয়াক হোসেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বাবার পথ ধরেই সরকারি চাকরিতে যোগদানের স্বপ্ন ছিল তাঁর। আশা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU), ময়মনসিংহ থেকে ‘কৃষি রসায়ন’ (Agricultural Chemistry) বিষয়ে সাফল্যের সাথে বিএসসি (অনার্স) এবং পরবর্তীতে এমএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ২০১৭ সালের শেষের দিকে ৩৬তম বিসিএস-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর, ২০১৮ সালের ৩ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকুরিতে (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে) যোগদান করেন। প্রশাসন ক্যাডারে তাঁর অফিসিয়াল পরিচিতি নম্বর (ID No) ১৮৩১৮।
ওসমানী নগরের বিতর্কিত ইউএনও মুনমুন নাহার আশার চাকরি জীবন শুরু হয় যেভাবে। মুনমুন নাহার ময়মনসিংহ সদরের একটি স্থায়ী বাসিন্দা। ছাত্রজীবনে মুনমুন নাহার আশা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU), ময়মনসিংহ থেকে ‘কৃষি রসায়ন’ (Agricultural Chemistry) বিষয়ে সাফল্যের সাথে বিএসসি (অনার্স) এবং পরবর্তীতে এমএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি সরকারি চাকুরিতে অংশ নেন এবং ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। প্রশাসন ক্যাডারে তাঁর অফিসিয়াল পরিচিতি নম্বর (ID No): ১৮৩১৮। বিগত ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অদ্যবাদী সেখানেই দায়িত্ব পালন করছেন। ইতি পূর্বে তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, ওসমানীনগরে বদলি হওয়ার ঠিক পূর্বে তিনি তাঁর নিজ জেলা ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি শাখা ভূমি অধিগ্রহণ (L.A.) শাখা-১ এবং তথ্য ও অভিযোগ শাখা পরিচালনা করেন। এর আগে তিনি হবিগঞ্জে থাকাকালীন জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কানাইঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। ৩৬তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৭ সালের শেষের দিকে এবং ক্যাডার কর্মকর্তা হিসাবে চাকরিতে তিনি ২০১৮ সালে সরকারি চাকুরিতে (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। কর্মকর্তাদের চাকরিতে যোগদানের সাধারণ তারিখ ছিল ৩ জুন, ২০১৮)। তার বাবার নাম: তাঁর পিতার নাম মো. ইশতিয়াক হোসেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।