• সিলেট, রাত ৩:১৯, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় মডেল ঢাকা গড়তে চান ডিসি ফরিদা খানম

admin
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬
স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় মডেল ঢাকা গড়তে চান ডিসি ফরিদা খানম

বিশেষ প্রতিবেদন : ঢাকা জেলা প্রশাসনের ২৫৪ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে এক অভূতপূর্ব গৌরবময় অধ্যায়। ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ প্রশাসক ওয়ারেন হেস্টিংসের হাত ধরে ভারতবর্ষে যে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল, তার আড়াই শ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম ঢাকার শীর্ষ প্রশাসনিক পদে আসীন হয়েছেন একজন নারী। বিসিএস ২৫তম ব্যাচের দক্ষ কর্মকর্তা ফরিদা খানম এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাজধানী কেন্দ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন। প্রায় দুই কোটি মানুষের এই বিশাল জনপদে নগরায়ণের তীব্র চাপ, জনঘনত্ব, অবকাঠামোগত সংকট এবং বহুমাত্রিক নাগরিক সমস্যার ভিড়ে ঢাকা জেলার দায়িত্বকে দেশের সবচেয়ে জটিল প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই গুরুভার কাঁধে নিয়ে নতুন জেলা প্রশাসক তাঁর মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন জনগণের আস্থা অর্জনকে। তাঁর মতে, একজন প্রশাসকের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি স্বচ্ছতা, মানবিকতা, দলগত প্রচেষ্টা এবং গভীর দায়িত্ববোধ—এই চার মূলনীতিকে তাঁর কর্মপদ্ধতির ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসনিক সেবা যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল স্রোতধারার সঙ্গে সরাসরি ইতিবাচক সংযোগ তৈরি করতে পারে, তিনি সেই প্রয়াসই চালাচ্ছেন। রাজধানীর প্রশাসনকে তিনি দেখছেন সামগ্রিক শাসন কাঠামোর চালিকাশক্তি হিসেবে, কারণ এখানকার প্রতিটি সিদ্ধান্তই পুরো দেশের গতিপ্রকৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে প্রশাসনের এই শীর্ষ পদে একজন নারীর অবস্থান দেশের নারী নেতৃত্বের সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফরিদা খানমের এই পথচলা প্রশাসন, বিচার, কূটনীতি কিংবা প্রযুক্তির মতো চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করা অসংখ্য নারীর মনে নতুন স্বপ্নের জানালা খুলে দেবে এবং বহু মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাঠপর্যায়ে তাঁর নেওয়া বেশ কিছু মানবিক ও সংস্কারমুখী উদ্যোগ ইতোমধ্যে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণ, নারী ও শিশুদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা দৃশ্যমান। তিনি স্পষ্টভাবেই বিশ্বাস করেন যে, সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিককে যেন অনিশ্চয়তা বা ক্লান্তির মুখোমুখি হতে না হয়। ঢাকার নাগরিক জীবনের অন্যতম ভোগান্তির জায়গা ভূমি সেবাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে চলা মামলার জট, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নামজারির দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে দ্রুত ই-নামজারি নিষ্পত্তি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিকার আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ঢাকার একটি বড় সরকারি খাসজমি উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে, যা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা সম্ভব—এই প্রত্যয় নিয়ে তিনি এখন ঢাকা জেলার সমস্ত সরকারি জমির একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে ভূমি দস্যুতা রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে বিশ্বাসী। বর্তমানে ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের ৩০টিরও বেশি সেবা অনলাইনেই দেওয়া হচ্ছে এবং বাকি সেবাগুলোকেও পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের মূল্যবান সময় ও আত্মসম্মান রক্ষা করা, যাতে সাধারণ মানুষ অনুভব করতে পারে যে রাষ্ট্র সর্বদা তাদের পাশেই রয়েছে। ঢাকা জেলার মতো একটি বহুমাত্রিক ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে নেতৃত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে আধুনিক প্রযুক্তি, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই জেলাকে দেশের উন্নয়ন ও সেবার একটি অনন্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ফরিদা খানম অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, রাজধানীর এই জেলা প্রশাসনের সফলতা আসলে পুরো বাংলাদেশেরই সফলতা।

এই নিউজ ৩৩ বার পড়া হয়েছে