• সিলেট, রাত ২:১৭, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিশু নির্যাতনে দ্রুততম রায়: ন্যায়বিচারের এই গতি অব্যাহত থাকুক

admin
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬
শিশু নির্যাতনে দ্রুততম রায়: ন্যায়বিচারের এই গতি অব্যাহত থাকুক

সম্পাদকীয়: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে আদালত যে রায় ঘোষণা করেছেন, তা আমাদের বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। দেশব্যাপী তীব্র জনরোষ এবং সরকারের দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর এই রায় নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। নিম্ন আদালতে দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের এই অসামান্য গতি যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ‘শূন্য সহনশীলতা’ (Zero Tolerance) নীতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি এক নতুন মাইলফলক। মানবিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আদালতের পর্যবেক্ষণে যথার্থই বলা হয়েছে—শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে আহত করে এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের সমন্বিত পেশাদারত্ব, নিখুঁত গাঁথুনি এবং আন্তরিকতা বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের আস্থার জায়গাটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে রায় প্রদানের এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্বস্তিদায়ক হলেও, পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি: উচ্চ আদালতে আপিল জট: বিগত সময়ে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছি, নিম্ন আদালত দ্রুত রায় দিলেও উচ্চ আদালতে এসে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের জটে তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। আইনি প্রক্রিয়ার এই ধীরগতি ও অনিশ্চয়তা একসময় ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রতীক্ষাকে ম্লান করে দেয়।
বিচারাধীন মামলার পাহাড়: বর্তমানে দেশের ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন প্রায় এক হাজার আট শতাধিক শিশু নির্যাতন মামলা ঝুলে রয়েছে। এর প্রতিটির পেছনেই রয়েছে কোনো না কোনো নিষ্পাপ শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘশ্বাস।আশার কথা হলো, সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে দ্রুত ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল ইতিবাচক প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে এই ক্ষেত্রে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রত্যাশা রয়েছে: সর্বজনীন অগ্রাধিকার: আইনি অগ্রাধিকার যেন কেবল সাময়িক, সামাজিক চাঞ্চল্য বা গণমাধ্যমে আলোচিত কোনো বিশেষ মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।
দৃষ্টান্ত স্থাপন: পল্লবীর এই মামলার দ্রুত, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া যেন দেশের অন্যান্য সব বিচারাধীন শিশু নির্যাতন মামলার জন্য একটি স্থায়ী, কার্যকর ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরিশেষ: কেবল চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নয়, বরং প্রতিটি শিশুর সুরক্ষায় তদন্ত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালতের আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত পুরো আইনি পথ একই গতিতে সচল রাখা বাঞ্ছনীয়। রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতায় ন্যায়বিচারের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:  ফিরোজ আজম্মেদ মোল্লা।

এই নিউজ ২৫ বার পড়া হয়েছে