• সিলেট, রাত ১২:৫০, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্টেলিং তারিয়াং: সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল বাতিঘর

admin
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬
স্টেলিং তারিয়াং: সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল বাতিঘর

কালাম সিকদার:  সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টেলিং তারিয়াং একটি সুপরিচিত, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শিক নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে যে সাহসিকতা, ত্যাগ এবং নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন, তা আজ তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমান রাজনীতিতে তিনি যে মজবুত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, তা কোনো আকস্মিক অর্জন নয়; বরং দীর্ঘ সংগ্রাম, রাজপথের অবিরাম পরিশ্রম এবং সংগঠনের প্রতি নিখাদ ভালোবাসারই ফসল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত সক্রিয়। বিশেষ করে বিএনপির প্রতিকূল দিনগুলোতে তিনি নিজেকে একজন সাহসী, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল অগ্রভাগে। রাজপথে সাধারণ মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করতে গিয়ে তিনি বহুবার হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কোনো ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন তাকে আদর্শের পথ থেকে বিত্তিচ্যুত করতে পারেনি। প্রতিকূলতার মুখেও তিনি সবসময় থেকেছেন অবিচল ও দৃঢ়চেতা। সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার রয়েছে গভীর ও আত্মিক সম্পর্ক। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ political সহযোদ্ধা এবং দলটির অন্যতম শীর্ষ নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ততার। রাজনীতিতে তার সবচেয়ে অন্যতম ও ঐতিহাসিক একটি অধ্যায় রচিত হয় ২০১৫ সালের পর। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব (বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য) সালাউদ্দীন আহমেদ নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতের শিলংয়ে যখন তার সন্ধান মেলে, তখন থেকে দীর্ঘ প্রায় নয় বছর তার পাশে থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া, সহযোগিতা করা এবং পরিবারের একজন সদস্যের মতো আগলে রাখার ক্ষেত্রে স্টেলিং তারিয়াং যে ভূমিকা রেখেছেন, তা রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ও প্রশংসনীয়। এই ঐতিহাসিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করার কারণে তাকে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের চরম রোষানলে পড়তে হয়েছে; একের পর এক রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই তার এই আনুগত্য ও বোধে ফাটল ধরাতে পারেনি। রাজনীতির মাঠে স্টেলিং তারিয়াংয়ের আরেকটি বড় পরিচয় হলো একজন দক্ষ ও দূরদর্শী সংগঠক হিসেবে। দলের কঠিনতম সময়ে যখন অনেকেই রাজপথ থেকে দূরে ছিলেন, তখন তিনি নীরবে-নিভৃতে কর্মীদের সুসংগঠিত রেখেছেন। যেখানেই আন্দোলন, কর্মসূচি কিংবা রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেই তিনি নিজের বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে উপস্থিত থেকেছেন। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে তিনি সিলেট শহরের মূল ধারার রাজনীতিতে নিয়ে এসে নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। তার হাত ধরেই আজ অনেক তরুণ রাজনীতির মাঠে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। স্টেলিং তারিয়াংয়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ও অকৃত্রিম মানবিকতা। রাজনীতিতে এত দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার পরও এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কাছাকাছি থাকার পরও তার মধ্যে নেই কোনো ক্ষমতার অহংকার, নেই গ্রুপিংয়ের নোংরা মানসিকতা কিংবা হিংসা-বিদ্বেষ। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন এবং সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন। দলের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় গোপনে ও প্রকাশ্যে এগিয়ে আসা তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আমি নিজেও বহুবার তার এই মানবিক কর্মকাণ্ডের বাস্তব প্রমাণ দেখেছি। দলের প্রতি তার ভালোবাসা এবং আনুগত্য সত্যিই আজকের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য শিক্ষণীয়। তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লোভ-লালসাকে দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি। সবসময় কর্মীদের কল্যাণকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তার এই নিভৃত ত্যাগ ও নিষ্ঠা আমাদের মতো অনেককেই অনুপ্রাণিত করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সমাজে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ আছেন যারা তার এই সাফল্য, সততা ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা ধরনের সমালোচনা, অপপ্রচার এবং ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন মানুষের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, রাজপথের রক্ত আর নিষ্ঠার ইতিহাসকে সস্তা অপপ্রচার দিয়ে কখনো মুছে ফেলা যায় না; মানুষের মন থেকে তার স্থান কেড়ে নেওয়া যায় না। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে বছরের পর বছর নিঃস্বার্থ পরিশ্রম করতে হয়; আর স্ট্যালিং তারিয়াং সেই ভালোবাসা ও গভীর আস্থা অর্জন করেছেন নিজের কর্ম, সততা ও আদর্শের মাধ্যমে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, দলের দুঃসময়ে হয়তো তার পাশে সরাসরি ছায়া হয়ে থাকার সুযোগ আমার অতটা হয়নি, তবে দলের সুদিনে তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। খুব কাছ থেকে দেখেছি তিনি কীভাবে দলকে ভালোবাসেন, কীভাবে নেতাকর্মীদের আপনজনের মতো আগলে রাখেন এবং কীভাবে সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার নিরন্টার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্টেলিং তারিয়াং শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন; তিনি মূলত সংগ্রাম, ত্যাগ, साहस, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তার এই আপসহীন রাজনৈতিক পথচলা আগামী দিনের নেতাকর্মীদের জন্য যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এই নিউজ ৩৭ বার পড়া হয়েছে