• সিলেট, রাত ৩:১৭, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাদক সেবন করিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, বাধা দিলে অস্ত্রের ভয়: অবশেষে অভিযুক্ত লোদন গ্রেফতার

admin
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬
মাদক সেবন করিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, বাধা দিলে অস্ত্রের ভয়: অবশেষে অভিযুক্ত লোদন গ্রেফতার

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: সিলেটে ইয়াবা সেবন করিয়ে শিশু ফাহিমা হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ১২ বছরের এক ভাসমান শিশুকে মাদক সেবন করিয়ে ধর্ষণের নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত লোদন (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত লোদন রেল স্টেশন এলাকায় ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতেন। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ওই শিশুটিকে ভুল বুঝিয়ে এবং ফুসলিয়ে রেল স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বাধা দিতে চাইলে লোদন ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে সবাইকে ভয়ভীতি দেখান এবং জোরপূর্বক শিশুটিকে ধরে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই পরিত্যক্ত ভবনে শিশুটিকে জোরপূর্বক নেশাদ্রব্য বা মাদক সেবন করিয়ে অচেতন ও বিবশ করার পর তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোররাত ৪টার দিকে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রেলওয়ে পুলিশকে (জিআরপি) খবর দেন। খবর পেয়ে রেল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এরপর রেল পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযানে নামে। সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লোদনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এদিকে সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগেই সিলেটে ইয়াবা সেবন করিয়ে শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে এখনো উত্তাল রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। সরকারি দলের মন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকেরা নিহতের বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। এমনকি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে মঙ্গলবারও নিহতের বাড়িতে যান জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রেল স্টেশন এলাকায় এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটল। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রেল পুলিশ আমাদের বিষয়টি অবহিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লোদনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনো ভুক্তভোগী ওই শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।” এ ঘটনায় রেল স্টেশন ও কদমতলী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই নিউজ ১৭ বার পড়া হয়েছে