• সিলেট, রাত ৮:০৪, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল

admin
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৬
সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আর নেই। শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেট নগরের সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমের দুই জামাতা ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার, কিডনিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত মে মাসে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত দুইদিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার বাদ আসর কানাইঘাটের তালবাড়িতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত তালবাড়ি জামেয়া ইউসুফিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ও সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা এই ব্যক্তিত্ব ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রসংঘের সিলেট জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলার আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। তিনি সিলেট নগরীতে বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলেন। আশির দশকে তাঁর নেতৃত্বেই সিলেটে প্রথম জামেয়া ইসলামিয়া মিরাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটি, পাঠানটুলা জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ও আল-আমিন জামেয়া ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু নগরীতেই নয়, নিজ গ্রাম তালবাড়িতেও তিনি পৈতৃক সম্পত্তিতে ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কাজ করে গেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে তিনি ‘আনজুমানে খেদমতে কুরআন’ নামক সংস্থা গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া তিনি নগরীর আলহামরা শপিং সিটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
একজন সজ্জন ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ওলামা সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই চিরবিদায় সিলেট অঞ্চলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিশিষ্ট এই আলেমের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মরহুমের মৃত্যুতে তাঁর দুই জামাতা ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ও নজরুল ইসলাম দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ওলামায়ে কেরাম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সিলেটবাসী একজন নির্লোভ ও সাদা মনের মানুষের হারানোয় গভীর শূন্যতা অনুভব করছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

এই নিউজ ৩০ বার পড়া হয়েছে