বাউফলে অনাহারে থাকা তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে উপজেলা প্রশাসন
বাউফলে অনাহারে থাকা তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে উপজেলা প্রশাসন
admin
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬
মোঃ রাশিদুল ইসলাম পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে বাবা-মা হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম অনাহার, অবহেলা ও মানবেতর জীবনযাপন করা তিন প্রতিবন্ধী ভাই নিদু, রিপন ও সাধনের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের জন্য নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ।
রবিবার (৭ জুন ২০২৬) দুপুরে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদ তিন ভাইয়ের নামে একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খুলে দেন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির মাঝে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় তিন ভাইয়ের নামে যৌথ হিসাব নম্বর- ০২০০০২৫৮৪৫৪৮৮ খোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের করুণ জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের বহু মানবিক ব্যক্তি বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সর্বশেষ তথ্যমতে, ওই হিসাবটিতে এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা জমা হয়েছে।
বিকেলে উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের আলোকচাঁদকাঠী গ্রামে তিন ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। জানা গেছে, এই যৌথ হিসাবটি পরিচালনা করবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তিন ভাইয়ের প্রয়োজন ও দৈনন্দিন চাহিদা অনুযায়ী হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করে তাদের সহায়তা প্রদান করা হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতেও যাতে প্রশাসনের এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকে, সে লক্ষ্যে উপজেলা কার্যালয়ে একটি স্থায়ী সরকারি নথি (ফাইল) সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে নতুন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পরিবারটির বিষয়ে বিশেষ নজরদারি বজায় থাকবে।
জানা যায়, স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী অমিত প্রথমে অসহায় তিন ভাইয়ের বিষয়টি ইউএনও মো. সালেহ আহমেদের নজরে আনেন। বিষয়টি জানার পরপরই ইউএনও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর পরামর্শ ও নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ও জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন ভাইকে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
এদিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলমত নির্বিশেষে অসহায় তিন ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন।