নৃত্য সংস্কৃতি সঠিক নিয়মে লালন না করলে তা পণ্যে রূপান্তরিত হয়: সামিনা হোসেন প্রেমা
নৃত্য সংস্কৃতি সঠিক নিয়মে লালন না করলে তা পণ্যে রূপান্তরিত হয়: সামিনা হোসেন প্রেমা
admin
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬
সিলেট ব্যুরো: “শিল্প-সংস্কৃতি একটি শিক্ষণীয় বিষয়। আমরা যদি একে সঠিক নিয়মে লালন ও পালন করতে না পারি, তবে সহজেই তা পণ্যে রূপান্তরিত হয়। সঠিক নিয়ম মেনে না চলার কারণেই আজ সমাজে নাচের শিল্পীদের নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করার সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত অর্থে যারা শিল্পকে পণ্যে রূপান্তর করে, তারা কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না।” রবিবার (৭ জুন) বিকেলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সারদা হলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শাস্ত্রীয় মণিপুরী নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ইনস্ট্রাক্টর (নৃত্য) সামিনা হোসেন প্রেমা। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক ও ‘সিলেট নৃত্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শিনিয়া সাহা ঝুমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দেশ যুব সংগঠন ও দেশ থিয়েটারের সভাপতি (অভিনয়শিল্পী ও যুব সংগঠক) কামাল আহমদ দুর্জয়। প্রধান অতিথি সামিনা হোসেন প্রেমা তার বক্তব্যে আরও বলেন, “সিলেটের মতো এত সুন্দর ও নান্দনিক জায়গায় সংস্কৃতির সাথে শিল্পের এক চমৎকার মেলবন্ধন রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে সবাই যে বড় নৃত্যশিল্পী হয়ে যাবে, এমন কোনো কথা নেই।
তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে থেকে এই শিল্পের প্রতি যদি শিক্ষার্থীদের সামান্যতম মায়াও সৃষ্টি হয়, সেখানেই আমাদের সার্থকতা।” পড়াশোনার মতো নৃত্যচর্চাকেও একটি কঠোর নিয়মানুবর্তিতার অংশ উল্লেখ করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা অর্জনের পর বাংলাদেশে শাস্ত্রীয় মণিপুরী নৃত্যের পর্যাপ্ত গবেষক না থাকায় তিনি ভারত থেকে এই নৃত্যের উচ্চতর দীক্ষা গ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক নিয়মে নৃত্যের দীক্ষা নিলে বর্তমান সমাজে কারও বেকার থাকার কথা নয়। সমাজে নৃত্যের প্রকৃত রূপ উপস্থাপন করতে হলে সঠিক নিয়মে দীক্ষিত নৃত্যশিল্পী গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনে মণিপুরী নৃত্যশৈলী প্রবর্তনের মাধ্যমে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করেছিলেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে উদ্ভূত এই প্রাচীন শাস্ত্রীয় নৃত্যটি বাংলাদেশ (বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল) এবং ভারতের মণিপুরী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা (রাসলীলা) এবং বৈষ্ণব ভক্তিবাদের ওপর ভিত্তি করে রচিত। শান্ত, মার্জিত, নমনীয় ও ললিত ভঙ্গি এবং হাতের সূক্ষ্ম মুদ্রার জন্য এই নৃত্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বর্তমানে সিলেটে এই শাস্ত্রীয় মণিপুরী নৃত্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় তা পূরণের লক্ষ্যে ‘সিলেট নৃত্যালয়’ এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করে। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শান্তিপূর্ণ ও সফল প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী দিনে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ভিজ্যুয়াল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের সহ-সভাপতি শাহ মোঃ আলী রব (নানা ভাই), সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকার ডাক’-এর সিলেট ব্যুরো চিফ এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, লেখক ও কবি সাজন আহমদ সাজু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মালেক আহমদ এবং মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক আকাশ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছড়াকার লোকমান হাফিজ, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের প্রচার সম্পাদক জুবায়ের আহমদ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মেনন।এর আগে, বিকেলে কর্মশালার সমাপনী দিনের কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল খান। এ সময় কোতোয়ালি থানার পুলিশ কর্মকর্তা কবির আহমদ, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিনসহ গণমাধ্যম কমিশনের স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।