• সিলেট, সকাল ৬:১৮, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তামাক চাষীদের হাহাকার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষোভ: লালমনিরহাটে হাটে তামাকে আগুন দিলেন দিশেহারা কৃষকরা

admin
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬
তামাক চাষীদের হাহাকার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষোভ: লালমনিরহাটে হাটে তামাকে আগুন দিলেন দিশেহারা কৃষকরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট সদর উপজেলার দুড়াকুটি হাটে তামাকের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। দীর্ঘ পরিশ্রম এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে উৎপাদিত তামাকের কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এরই প্রতিবাদে হাটে নিজেদের তামাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ​স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত (এখানে বারের নাম দিতে পারেন) দিন দুড়াকুটি হাটে তামাক বিক্রি করতে আসেন আশপাশের এলাকার শত শত কৃষক। তবে বাজারে এসে তামাকের যে দরদাম তারা শোনেন, তাতে উৎপাদন খরচ ওঠানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে এক পর্যায়ে কয়েকজন কৃষক হাটের মধ্যেই নিজেদের তামাকের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান। তামাক পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশের এই ঘটনাটি দ্রুত পুরো হাটে ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ​ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব ধরনের উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় তামাকের বাজারমূল্য বাড়েনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা আরও কমে গেছে। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে এখন উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক তামাক চাষি বলেন, “দিন-রাত এক করে, ধার-দেনা করে তামাক আবাদ করলাম। এখন বাজারে এসে যে দাম পাচ্ছি, তাতে শ্রমিকের মজুরিও উঠবে না। লোকসান দিয়ে তামাক বিক্রি করার চেয়ে পুড়িয়ে ফেলাই ভালো মনে হয়েছে।” ​এলাকার সচেতন মহল ও কৃষিজীবীদের মতে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে। তামাক চাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। ​এই পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সিন্ডিকেট রোধ এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা।

এই নিউজ ২২ বার পড়া হয়েছে