স্টালিং তারিয়াংয়ের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, কাঠগড়ায় ছাত্রদল নেতা আজির উদ্দিন
স্টালিং তারিয়াংয়ের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, কাঠগড়ায় ছাত্রদল নেতা আজির উদ্দিন
admin
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকায় বালু ও পাথর পরিবহনের নৌকা এবং যানবাহন থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আজির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ অর্থ আদায় করে আসছে বলে জানা গেছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চাঁদাবাজির পেছনে ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্টেলিং তারিয়াংয়ের নাম। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জিরো পয়েন্ট এলাকায় চাঁদাবাজির এই সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। প্রতিদিন রাতে এই রুট দিয়ে চলাচলকারী বালু ও পাথর বোঝাই নৌকা প্রতি ৫০০ টাকা এবং পণ্যবাহী গাড়ি প্রতি ১,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, টাকা তোলার সময় স্টেলিং তারিয়াংয়ের নাম ব্যবহার করা হলেও, আদায়কৃত অর্থের একটি বড় অংশ তথাকথিত ‘স্বপন গ্রুপ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মহলে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। এই চাঁদাবাজি চক্রের সহযোগী হিসেবে স্থানীয়ভাবে আরও বেশ কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন ইউসুফ, হাসান, দেলোয়ার হোসেন দলু, গিয়াসউদ্দিন, ওয়াসিম বখত এবং আলাউদ্দিন। এলাকায় তাদের ভূমিকা নিয়েও এখন নানা মহলে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
৫০০ কোটি টাকার পাথর লুটের অভিযোগ, মামলা আদালতে এই চক্রের বিরুদ্ধে শুধু চাঁদাবাজিই নয়, আরও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই সিন্ডিকেটটি জিরো পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পাথর লুটপাট ও অবৈধভাবে উত্তোলন করেছে। এই বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ চুরির বিষয়টি বর্তমানে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। “আমি জড়িত নই, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক”: স্টেলিং তারিয়াং নিজের নাম জড়িয়ে চাঁদাবাজির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে তীব্র আপত্তি ও ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন স্টালিং তারিয়াং। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,, “আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি এ ধরনের চাঁদাবাজি বা অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি কোনোভাবেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই এবং কাউকে এ ধরনের কোনো পৃষ্ঠপোষকতাও দিই না।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি: সংগঠনের নাম ও ব্যক্তিনাম ভাঙিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং পাথর লুটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে পুরো ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সাথে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।