• সিলেট, রাত ১২:৪৯, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নায়ক সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

admin
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২৬
নায়ক সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

# হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত। # অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট # স্ত্রী সামীরা ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক : জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর দীর্ঘ বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে আইনি প্রক্রিয়া। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য এবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনের পর নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও পুনঃময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। এর আগে ২০ মে সিআইডির পক্ষ থেকে এই আবেদনটি করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আইনি কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করা হবে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই শীর্ষ নায়কের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সে সময় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বা আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারেনি পরিবার। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী দাবি করেন—তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। পরবর্তীতে আদালত সিআইডিকে অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করে। সালমানের পরিবার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক এবং বিতর্কিত শিল্পপতি ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— লতিফা হক লুছি, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার একটি বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই দিন সালমানের মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। প্রথমে তাঁদের বলা হয় সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিমের ফোনের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন সালমানের কিছু একটা হয়েছে। দ্রুত শয়নকক্ষে গিয়ে তাঁরা সালমানকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, অনেক আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
উত্তরাধিকার সূত্রে লড়াই চালাচ্ছেন মামা আলমগীর: সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ছেলের মৃত্যুর সুবিচারের জন্য লড়ে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন বোন নীলা চৌধুরীর পক্ষে পুরো মামলার আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ সময়ে মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে কেউ যদি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবে যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। তবে এই দেহাবশেষ উত্তোলনের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর আড়ালের সত্যটি শেষ পর্যন্ত সামনে আসবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

এই নিউজ ২১ বার পড়া হয়েছে