• সিলেট, রাত ২:৩০, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান অপহরণ হননি, ধর্ষণের মামলায় ডিবি হেফাজতে

admin
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৬
দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান অপহরণ হননি, ধর্ষণের মামলায় ডিবি হেফাজতে

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) এক যুবতীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ দাবি করেছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং আইনি জটিলতা ও প্রতারণা ঢাকতে তিনি নিজেই ‘স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে’ ছিলেন। অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৫ বছর বয়সী এক যুবতীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরবর্তী সময়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কৌশলে ওষুধের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। এরপর থেকে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান গত শুক্রবার (১২ জুন) বিয়ে করবেন বলে সম্মতি জানান। তবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জিসান আত্মগোপনে চলে যান এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ জিসানকে স্থানীয় রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেন যে তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাবি নাকচ করে দেয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানান, “নিখোঁজ ওই শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জের ধরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।”জিসানকে উদ্ধারের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসান ছাড়াও সহায়তাকারী হিসেবে সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজিব হাসান (২১) নামের আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানান, মামলার পর জিসানকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই নিউজ ১০ বার পড়া হয়েছে