জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই লক্ষ্য দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ -প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই লক্ষ্য দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ -প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
admin
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৬
# বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন # ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, # পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন । # শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী # মুষলধারে বৃষ্টিতে কোদাল হাতে সরকার প্রধান। # সবুজ অভয়ারণ্যের ডাক: জেলা প্রশাসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা। #কৃষি ও শিল্পের মেলবন্ধন: নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা। # ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
আব্দুল হালিম সাগর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনই তাঁর সরকারের মূল শক্তি এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। আজ শনিবার কক্সবাজার সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দেড় দশকেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম কক্সবাজার সফর। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ উর্ধ্বতন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর থেকে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ছুটে যান কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে।
প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজের হাতে কোদাল তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে খালের পাড়ে তিনি একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৮ কিলোমিটারের এই ঐতিহাসিক খালটি আজ থেকে প্রায় ৪৭ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজের হাতে কোদাল দিয়ে খনন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার লাগানো খেজুর গাছটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে টিকে রয়েছে। স্থানীয় প্রকৌশলীরা জানান, এই খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার সাড়ে ৮ হাজার কৃষক এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। খাল পাড়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আর বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়। আমরা আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।” সদ্য প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, এবারের বাজেটে চাল, ডাল, তেল, নুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাজেটের পরও কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। অথচ বিরোধী দল এই গণমুখী বাজেটেরও বিরোধিতা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এদেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবার নয়, এদেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।” দুপুরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা বাজারপাড়া এলাকায় যান। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য মোহাম্মদ ওয়াসীম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে প্রধানমন্ত্রী ওয়াসীমের পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁদের খোঁজ-খবর নেন। এ সময় তিনি শহীদের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারতের পর দুপুর দেড়টায় পেকুয়া উপজেলায় নবগঠিত ‘পেকুয়া পৌরসভা’ ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়া উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, আর আজ বিএনপি সরকার এই পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করল। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় বিএনপি ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সবসময় দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে। বিকেল ৩টায় ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রতি বছর অন্তত ৫ কোটি করে আগামী ৫ বছরে মোট ২৫ কোটি চারা রোপণ করবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমাদের সন্তানরা যাতে আগামী দিনে একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারে, সেই চিন্তা থেকে প্রত্যেকে যার যেখানে সম্ভব একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করি।” এ সময় তিনি দেশের সকল জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান দেশের প্রথম সাফারি পার্ক ‘ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক’ পরিদর্শন করেন। পার্কের ভেতরের উন্মুক্ত বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘুরে দেখার সময় প্রধানমন্ত্রীকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি ‘নাগলিঙ্গম’ গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি ও ডা. জুবাইদা রহমান পার্কের স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে সেখানে তাঁদের স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। কক্সবাজারের এই ব্যস্ততম সফরে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে নামার পর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেই গাড়ি চালান, যেখানে তাঁর পাশের আসনে বসা ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগদান, মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন এবং সন্ধ্যায় লং বিচ হোটেলে সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়া। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাতেই বিমানে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সমাবেশ ও কর্মসূচিসমূহে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।