• সিলেট, রাত ২:৩৪, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএসএফের ঠেলে দেওয়া রোজিনা এখন আশ্রয়হীন, ঘুরছেন পথে পথে

admin
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৬
বিএসএফের ঠেলে দেওয়া রোজিনা এখন আশ্রয়হীন, ঘুরছেন পথে পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঠেলে পাঠানো সাতজনের মধ্যে একজন হলেন রোজিনা খাতুন রোমানা। পথে পথে আশ্রয়হীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই নারী। একই দলে থাকা অন্য ছয়জন নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রোজিনার পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করতে না পারায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গত শুক্রবার (১৩ জুন) গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের পীরতলা গ্রামে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা মানবিক কারণে খাবার ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেও তার স্থায়ী নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন গাংনীর তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তে পুশইনের একটি ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই দিন ভোরে ১৪০/৫-এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার এলাকায় নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করতে থাকে। এদিকে একই সময় তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন অন্য একটি পয়েন্ট দিয়ে সাতজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং পরে বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যান। ওই সাতজনের মধ্যে একজন রোজিনা খাতুন। সীমান্ত অতিক্রমের পর আতঙ্কিত ও দিশেহারা রোজিনা একটি আমবাগানে আশ্রয় নেন। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা চলে গেলেও তিনি পথ হারিয়ে গাংনীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকেন। বর্তমানে তিনি পীরতলা গ্রামে অবস্থান করছেন। রোজিনা জানান, তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুল খালেক, মায়ের নাম ফাতেমা এবং ভাইয়ের নাম আব্দুর রহমান। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ভারতে প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর গত ৬ জুন তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। পীরতলা গ্রামের বাসিন্দা টগর খাতুন বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে মেয়েটিকে আমাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে। কথা বলে জানতে পেরেছি সে ভারত থেকে এসেছে। আমরা মানবিক কারণে খাবার দিচ্ছি, তবে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাব হোসেন বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রাতের বেলা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। বিষয়টি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাহানারা খাতুন বলেন, রোজিনা মাঝে মাঝে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে? এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরশাদ আলী বলেন, রোজিনার পরিচয় সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অফিস খোলার পর সেসব তথ্য যাচাই করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আর পরিচয় নিশ্চিত না হলে তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন বলেন, বিষয়টি জানার পর সমাজসেবা অফিসের স্থানীয় কর্মীকে খোঁজখবর নিতে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে মেয়েটি পীরতলা গ্রামের একটি বাড়িতে রয়েছে। সে যেন নিরাপদে থাকতে পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, রোজিনা নামের মেয়েটির বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নাকি ভারতের। এছাড়া কীভাবে এখানে এসেছেন সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তার নিরাপত্তার বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হলে প্রকৃত ঠিকানা শনাক্ত করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এই নিউজ বার পড়া হয়েছে