• সিলেট, বিকাল ৪:২০, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চিকিৎসক ও জনবল সংকট: রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ব্যাহত ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা

admin
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৬
চিকিৎসক ও জনবল সংকট: রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ব্যাহত ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে খুঁড়িয়ে চলছে। জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের একমাত্র প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন এখানে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত রোগী আসেন। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতালের অনুমোদিত ৫৭টি বিশেষজ্ঞ পদের বেশিরভাগই শূন্য পড়ে আছে। বিশেষ করে মেডিসিন, কার্ডিওলজি, সার্জারি, শিশু, গাইনি, চর্ম ও যৌন, ফরেনসিক মেডিসিন, অর্থো-সার্জারি, ইএনটি, অ্যানেশথেসিয়া এবং রেডিওলজিস্টের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। সম্প্রতি ১৬ জন মেডিকেল অফিসারকে এখানে পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক কর্মস্থলে যোগদান করেননি। ফলে বর্তমানে কর্মরত হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসককে বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, যার কারণে সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় নিরুপায় হয়ে সাধারণ ও জটিল রোগীদের ফরিদপুর বা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে, যা দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। ওয়ার্ড বয়, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং নাইট গার্ডের একাধিক পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের দৈনন্দিন চিকিৎসা পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় ওয়ার্ডে থাকা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তা জনবলের অভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যেমন, জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তরের জন্য হাসপাতালে চারটি সচল অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকলেও সেগুলোর বিপরীতে চালক রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে চালকের অভাবে একসঙ্গে একাধিক রোগীকে জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই চরম ভোগান্তি নিরসনে সম্প্রতি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় হাসপাতাল সেবা কমিটির সভাপতি এবং রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জনগণের চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই সরকার এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করেছে এবং দ্রুতই সব শূন্য পদ পূরণসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদও স্বীকার করেছেন যে, বছরের পর বছর পদগুলো শূন্য থাকায় হাসপাতালটি তার পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না, যার ফলে কৃষক, শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জেলার সচেতন মহল অবিলম্বে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এই নিউজ ৫৮ বার পড়া হয়েছে