
আবদুল হালিম সাগর: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারের ঠিক পাশেই অবস্থিত ‘কাষ্টঘর’ সুইপার কলোনি। এখানে বাস করেন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন যারা সিটি করপোরেশন এলাকার পরিচন্ন কাজে নিয়োজিত থাকেন। কাষ্টঘর নামটি শুনলেই এখন সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক আর অস্বস্তি দানা বাঁধে। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতির সুযোগ নিয়ে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি এখন পরিণত হয়েছে সিলেটের অন্যতম প্রধান ‘ক্রাইম জোন’ বা অপরাধের অভয়ারণ্যে হিসাবে। এটি এখন সিলেটের অন্যতম প্রধান ‘ক্রাইম জোন’ বা অপরাধের আখড়া হিসেবে পরিচিতি। ঘনবসতির সুযোগ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হাতবাড়ালেই মিলছে দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, হিরোইন থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক। আর একে কেন্দ্র করে বন্দরবাজারসহ গোটা সিলেট নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ‘ঝাপটা পার্টি’ ও ছিনতাইকারীরা। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকার কিশোর ও যুবকদের বড় অংশ জড়িয়ে পড়ছে নানামুখী অপরাধে। সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র কাষ্টঘরের মাদক রাজ্য আর ছিনতাইকারীচক্র দমন করা গেলে সিলেট নগরীর ৭০ ভাগ অপরাধমূলক কর্মকান্ড কমে আসবে। ব্যবসারীরা জানান, কাষ্টঘর এলাকা দিয়ে দিনে রাতে সাধারণ মানুষজন চলাচল করতে এখন ভয় পায়। কারণ এই এলাকায় প্রতিদিন সঙ্গবদ্ধ হয় সিলেট নগরীর সব ধরণের মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, ঝাপটা পার্টির সদস্যরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র (বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী) আরিফুল হক চৌধুরী ব্যস্ততম বন্দরবাজার ও কাষ্টঘর এলাকা থেকে বির্তর্কীত সুইপার কলোনিটি দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে বাধ সাধেন সিলেটের প্রয়াত সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এলাকাটি তার নিজ ওয়ার্ডে এবং সেখানে তার একটি বড় ‘ভোট ব্যাংক’ থাকায় তিনি কলোনিটি কাষ্টঘরেই রেখে দেওয়ার জোর সুপারিশ করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কলোনিটি স্থানান্তরের আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি সিটি করপোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসন। কলোনিটি নিরাপদ এলাকায় স্থানে স্থানান্তর এখন সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে পরিণত হয়েছে। যদিও এনিয়ে কোন রাজনৈতিক নেতার মাথা ব্যাথা নেই। নেই সংশ্লিষ্ট সিটির কিংবা সিলেট জেলা প্রশাসকের। অপরদিকে অরাধীদের অভয়ারাণ্য গড়ে শুধু পুলিশের গাড়ে দায় দিয়েই যাচ্ছেন রাজনৈতিক মহল। কিন্তু কাজের কাজ কোন কিছু করছেন না তারা। এমন দাবী আশপাশের ব্যবসায়ীদের। কাষ্টঘরের ভেতরের রাস্তা ও গলিগুলো এতটাই ঘিঞ্জি যে, অচেনা কেউ ঢুকলে পথ হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়। বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরবাজার, কালিঘাট, মহাজনপট্টি ও জিন্দাবাজার এলাকায় ছিনতাই করে অপরাধীরা নিমেষেই কাষ্টঘরের সরু গলিতে ঢুকে আত্মগোপন করে। সন্ধ্যা হলেই সাধারণ মানুষ ভুল করে এখানে ঢুকলে বা আশেপাশের রাস্তা দিয়ে পথচারীরা চলাচল করলেই প্রকাশ্য মোবাইল, টাকা-পয়সা খোয়ানো নিত্যদিনের ঘটনা। পুলিশ অভিযান চালাতে এলে অপরাধীরা সহজেই পেছনের রাস্তা বা ভবনের ছাদ বেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কিংবা অপরাধীরা আড়ালে থেকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে পুলিশের উপর উল্টো হামলা করে বসে। তবু পুলিশ যে অভিযান চালায়না, তা কিন্তু নয়, কিন্তু অভিযানের ৯০ ভাগই বিফল হয় শুধু ঘিঞ্জি এলাকার কারণে। এখানে থাকা হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি ভাসমান ও নিম্নআয়ের মানুষের সঠিক তথ্যও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নেই। এছাড়া কলোনির নতুন, পুরাতন দালানের ছাদ ও বন্দরবাজারের পুরাতন জেল কোয়ার্টারের পরিত্যক্ত ভবন এখন অপরাধীদের মূল আস্তানায় পরিণত হয়েছে। নগরীর সব কয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এখন ছিনতাইকারীদের আতঙ্ক। ইদানীং সিএনজি অটোরিকশা কিংবা পথচারীদের টার্গেট করে হঠাৎ মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ‘ঝাপটা পার্টি’র দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে। সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, ইবনে সিনা, ধোপাদিঘীর পারসহ ৭-৮টি পয়েন্টে ভাগ হয়ে এরা অপরাধকর্ম চালায়। এখানে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এমনকি সাদা পোশাকের পুলিশও। কোনো ছিনতাইকারী আটক হলে ছদ্মবেশে থাকা তাদের সহযোগীরা সুকৌশলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এমনকি তাদের গ্রেপ্তার করতে গেলে উল্টো পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। কলোনির ভেতরে আধিপত্ব্য বিস্তার ও মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’-এর মহড়াও নিত্যদিনের চিত্র। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এলাকার সব কয়টি পয়েন্টে এখন ঝাপটা পার্টি আর ছিনতাইকারীদের আতংক বিরাজ করছে। বন্দরবাজারের পুরাতন জেল কোয়ার্টারের পরিত্যাক্ত ভবন ও সুইপার কলোনী এখন মাদক আর ছিনতাইকারীদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইদানিং হঠাৎ করে বন্দরবাজার এলাকায় ঝাপটা পার্টি নামে কয়েকটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিএনজি হউক আর পথচারী হউক টার্গেট করে কয়েকজন মিলেই হঠাৎ মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া। কোন ছিনতাইকারী আটক হলে পুলিশ আসার আগেই তার সাথে থাকা লেবাস ধারীরা তাকে সুকৌশলে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বিশেষ করে কাষ্টঘরে থাকা অপরাধীরা সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, বন্দরবাজার পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট, ইবনেসিনা পয়েন্ট, ধোপাদিঘীর পার পয়েন্ট ৭/৮টি ভাগে এলাকায় ভাগ হয়ে তাদের কার্যক্রম চালায় ছিনতাইকারী চক্র। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশের কিছু করার নেই। কারণ তাদের গ্রেফতার করতে গেলে উল্টো পুলিশের উপর হামলার ঘটনা গটে বেশ কয়েকবার। তাই প্রকাশ্য রাজপথে চলছে ছিনতাই, মোবাইল ছিনতাই আর পকেট মারের মত ঘটনা। মহিলাদের ভ্যানেটি ব্যাগ, পথচারী বা ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সিভিলে থাকা পুলিশ সদস্য হলেও ঝাপটা পার্টির হাতে অনাসেই হারিয়ে ফেলেন স্বপ্নের বা প্রয়োজনের মোবাইল ফোন টাকা পয়সা। অভিযোগ আছে কাষ্টঘর হরিজন সম্প্রদায়ের মাত্র কয়েকজন লোকসহ বহির্গত ১০/১২ জনের নিয়ন্ত্রণে সিলেটের ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা ও মদের ব্যবসা চলে। মাদক কারবারের নেপথ্যে থেকে টাকা বিনিয়োগ করেছেন সিলেটের মাদক ডনরা। যে কারণে খুব দ্রুত কাষ্টঘর মাদকের ভয়ংকর স্টেশনে পরিণত হয়ে উঠেছে। এখান থেকে ইয়াবা ডিলারদের হাত ধরে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে গোটা সিলেটে। পাশাপাশি সিলেটের অন্য মাদক আস্তানার ব্যবসায়ীরাও কাষ্টঘর কেন্দ্রিক মাদকের জাল বিস্তারে যুক্ত রয়েছেন। কাষ্টঘর সুইপার কলোনির একদিকে সোবহানীঘাট এবং অন্যদিকে মহাজনপট্টির সংযোগ সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই মুখের রাস্তায় বন্দরবাজার ও সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নিয়মিত দাঁড়িয়ে তল্লাশি চালান। এতে প্রায়ই সাধারণ পথচারীরা বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হন। অথচ কলোনির ভেতরে দুই পাশে প্রকাশ্যে দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ও আইস বিক্রি হচ্ছে। হরিজন সম্প্রদায়ের ১৫/২০ জন এবং বহিরাগত ২০/৩০ জনের একটি চক্র গোটা সিলেটের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে এই কাষ্টঘর এলাকা থেকেই। প্রতিদিন সকাল হলে কাষ্টঘর এলাকায় জড়ো হয় সিলেটে নগরীতে বসবাসকারী মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা, দিন রাত সমান তালে চলে মাদক ব্যবসা। ছিনতাইকারী অবস্থান নেয় অলিতে গলিতে এখান থেকে বেরিয়ে ছিনতাইকান্ড ঘটিয়ে আবার তারা নিরাপদে কাষ্টঘর চলে আসে। অভিযোগ আছে নেপথ্যে অর্থ বিনিয়োগ করছেন সিলেটের চিহ্নিত ‘মাদক ডনরা’। ইতোপূর্বে প্রায় শতাধিকবার এখানকার কুখ্যাত মাদক বিক্রেতাকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব গ্রেফতার করে। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন কলোনির ভেতরে তো ইয়াবার কারখানা বা গাঁজার খেত নেই, তাহলে এসব মাদক ঢুকছে কিভাবে? বড় সিন্ডিকেটগুলো কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে? সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড় একটি ইয়াবার চালান ধরতে তিনটি গাড়ি নিয়ে অভিযান চালাতে গিয়েও ব্যর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কারণ মাদক বিক্রেতাদের নিজস্ব তথ্যদাতারা আগেই ডিলারদের কাছে খবর পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামমাত্র কিছু মাদকসহ দুজনকে আটক করে মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার-মেজরটিলা, আম্বরখানা-মদিনা মার্কেট, বন্দরবাজার-হুমায়ুন রশীদ চত্বরসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রীবেশে সিএনজি অটোরিকশায় অভিনব কায়দায় ছিনতাই চলছে। কীন ব্রিজের সুরমা মার্কেট এলাকা, মধুবন ও শিশুপার্ক এলাকায় গ্রুপ ভিত্তিক ছিনতাইকারীরা সক্রিয়। দিনে যারা ‘ঝাপটা পার্টি’ হিসেবে কাজ করে, সন্ধ্যা হলেই তারা পুরোদস্তুর ছিনতাইকারীতে রূপ নেয়। কোর্ট পয়েন্ট, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ, মেডিকেলসহ প্রতিটি পয়েন্টেই রয়েছে এদের নির্দিষ্ট গডফাদার। যদিও পুলিশের দাবি, রাতে ছিনতাই রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে, কিন্তু দিনের আলোর অপরাধের কোনো সুরাহা হচ্ছে না। গত ২দিন সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় আড়াইশত অপরাধীদের গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযান চালায় কাষ্টঘরে কিন্তু এলাকাটি এতোটাই ঘিঞ্জি যে পুলিশ ঠিক মতো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। পুলিশ এক দিকে প্রবেশ করলে অপরাধীরা অন্যরাস্তা দিয়ে বেরিয়ে চলে যাচ্ছে ফলে শতকষ্টের অভিযান বিফল হচ্ছে। এদিকে সিলেট নগরীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যাত্রীবেশে ছিনতাইকারীর সংখ্যা। সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের যোগাযোগেও এসব ঘটনা ঘটছে। নগরীতে এমন ছিনতাইর ঘটনা নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই একটা চক্র একই কায়দায় ছিনতাই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এরকম অভিনব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও ছিনতাইকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। মহানগরীর বন্দরবাজার-মেজরটিলা, আম্বরখানা-মদিনা মার্কেট, বন্দরবাজার-হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর, টিলাগড়-আম্বখানা, উপশহর-সোবাহানীঘাট-বন্দরবাজার, বন্দরবাজার-আম্বরখানা, সুরমা পয়েন্ট-ওসমানী মেডিকেল, মদীনা মার্কেট-ভার্সিটি গেইট এলাকায় নিয়মিত সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে থাকে। প্রকাশ্য দিনে দুপুর ছিনতাই কর্মকান্ডে নগরবাসীসহ পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নেমে এসেছে। তবে পুলিশ বলছে, সিলেটে রাতে রাতের বেলা ছিনতাই না বাড়ে সে কারণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার সময় গাড়ী থেকে ঝাপটা দিয়ে ব্যাগ, মোবাইল ছিনতাই করা হয়। আর ছিনতাই করে তারা কাষ্টঘরের দিকে চলে যায়। দক্ষিণ সুরমায় হলে বাস টার্মিনালের পিছনে চলে যায় ছিনতাইকারীরা। সিলেটের কীন ব্রিজের সুরমা মার্কেট এলাকায় রয়েছে একটি ছিনতাইকারী পার্টি। পাশাপাশি ঝাপটা পার্টির দৌরাত্ম্যও বেশি। এখান থেকে মধুবন পর্যন্ত থাকে আরেকটি পার্টি। মধুবন থেকে শিশুপার্ক পর্যন্ত দিনে রাতে ছিনতাইকারীরা নেমে পড়ে রাস্তায়। আর দিনে ওরা ঝাপটা পার্টি হয়ে কাজ করে আর সন্ধ্যা হলে ছিনতাই। কখনো কখনো তারা কীন ব্রিজের নিচ দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের একটি গ্রুপের প্রধান আস্তানা সুরমা মার্কেটের ভেতরটাই। ছিনতাই করার মালামাল নিয়ে রাখা হয় ওখানে। নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, আম্বরখানা, জিন্দাবাজার গার্লস স্কুলের সামনে, ধোপাদিঘীরপাড়, সুবহানীঘাট, উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ, চৌহাট্টা, মেডিকেল, রিকাবীবাজার, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট ও বিশ্ববিদ্যালয় ফটক এলাকায় রয়েছে ছিনতাই পার্টি একেক জন গডফাদার। যদিও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “শুধু মাদকসেবী নয়, বরং মাদকের বড় কারবারি ও চোরাচালানকারীদের ধরতে সরকার জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে।”
সিলেটের সচেতন মহল মনে করে, কেবল ২/৫ পিস ইয়াবাসহ পথচারী বা সেবীদের আটকে মাদকের মূল উৎস উপড়ানো সম্ভব নয়। কাষ্টঘর সুইপার কলোনির ভেতরে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে মূল গডফাদার ও সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কাষ্টঘরের এই ‘অপরাধের তকমা’ মুছে সিলেট নগরীকে নিরাপদ করতে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি যতদ্রুত সম্ভব সুইপার কলোনিটি শহরের বাহিরে স্থানান্তর করে নগরীরবাসিকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দিতে সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. ফিরোজ আহমেদ মোল্লা
নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হালিম সাগর
প্রকাশক কর্তৃক বি,এস, প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ৮৭ পুরানো পল্টন টাওয়ার, পুরানো পল্টন লেন থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয় কার্যালয়: ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক-০১৭১৫৬৯৩৭৫৩, ০১৩১৩৮৪৬৫২৫, নির্বাহী সম্পাদক: ০১৭২২-০৬২২৭৪। E-mail: dailyporzobekkhonbd.com