
সম্পাদকীয় :রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি নাগরিকদের নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রোববার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন প্রতারণা, এটিএম বুথ জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা এবং মানব পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধে একশ্রেণির বিদেশি নাগরিক সরাসরি সম্পৃক্ত থাকছেন। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধে তাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ আমাদের জননিরাপত্তা ও জাতীয় শৃঙ্খলার ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, গত ১২ বছরে এক হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, দেশে অবস্থানরত এক লাখ বিদেশির মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার ৬৪৮ জনই অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবস্থান করা এই নাগরিকরাই মূলত অপরাধের জাল বুনছেন। তারা নিজেদের পাসপোর্ট নষ্ট করে পরিচয় গোপন রাখছেন এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ডেরা গেড়ে অনলাইনে ‘গিফট পার্সেল’ বা ‘বিদেশে কর্মসংস্থান’-এর মতো প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই আন্তর্দেশীয় অপরাধ বা ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। আমাদের দেশের মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তারা যেভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও নিবিড় হওয়া প্রয়োজন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও বলছে, আফ্রিকার কিছু দেশের এবং চীন ও ভারতের কিছু নাগরিক এসব অপরাধচক্রের মূল হোতা। বলা বাহুল্য, এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকাও কম নয়। কাজেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সরবরাহ করা কিংবা অর্থ উত্তোলনে সহায়তা করা স্থানীয় দালালদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় একটি বাধা হিসাবে দেখা দিয়েছে কিছু দেশের দূতাবাসের অনুপস্থিতি। ফলে অপরাধীদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। অবৈধ বিদেশিদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় অপরিচিত বিদেশিদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ বা লোভে পড়ে কাস্টমস ফি-এর নামে টাকা পাঠানোর আগে যাচাই করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের কারণে সব বিদেশিকে নেতিবাচকভাবে দেখা যেমন অনুচিত, ঠিক তেমনই নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখানোরও সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বিদেশি নাগরিকের তথ্যভান্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা এবং যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে, যাতে কোনো বিদেশি অপরাধী আমাদের সীমানার ভেতরে বসে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আজ অপরিহার্য।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. ফিরোজ আহমেদ মোল্লা
নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হালিম সাগর
প্রকাশক কর্তৃক বি,এস, প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ৮৭ পুরানো পল্টন টাওয়ার, পুরানো পল্টন লেন থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয় কার্যালয়: ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক-০১৭১৫৬৯৩৭৫৩, ০১৩১৩৮৪৬৫২৫, নির্বাহী সম্পাদক: ০১৭২২-০৬২২৭৪। E-mail: dailyporzobekkhonbd.com