
বিশেষ প্রতিবেদন: সিলেটে এক মানবপাচারকারীর কাছে জিম্মি হয়ে আছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সেই মানবপাচারকারীর কাছে নিজেদের আদর্শ বিক্রি করে দিয়েছেন সামান্য টাকার বিনিময়ে। এ মানবপাচারকারী এতো দুরন্ত নিজের পরিবারের সকলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তাকে সেল্টার দিচ্ছেন সিলেট মহানগর বিএনপি, তাঁতীদল ও জামায়তের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। কারণ তারা সকালেই সেই মানবপাচারকারীর অর্থের কাছে নিজেদের আদর্শ বিলিয়ে দিয়েছেন। এ মানবপাচারকারী এটাই দুরন্ত যে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবপাচার আইনে মামলা থাকলেও নিজের অবৈধ অর্থের জোরে একের পর এক অবৈধ কর্মকান্ড করে যাচ্ছে সে। এক কথায় স্থানীয় প্রশাসন তার কাছে শিশুর মত। এদিকে নিজের অবৈধ ভাবে করা সিসিকে অনুমোদনহীন ইমারত টিকিয়ে রাখার জন্য টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন সিসিকের সংশ্লিষ্ট ঘুষখোর কর্মকর্তাদের। সেই মানব পাচারকারীর আদ্যপ্রান্ত জানতে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালায় আমাদের টিম।
অনুসন্ধানে দেখা যায়,আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জামাতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বশির আহমদ নামের সেই মানবপাচারকারীর সকল অপকর্মের শেল্টারদাতা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডের লামাপাড়া মোহিনী (খন্ডিকরপাড়া) এলাকার বর্তমান বাসিন্দা ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার এনায়েত আলীপুর গ্রামে বাসিন্দা মৃত আনছার আলীর ছেলে এই মানবপাচারকারী বশির আহমেদ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বিল্ডিং নির্মাণকালীন সময়ে সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম কানুনের কোন তোয়াক্কাই না করে তার প্রতিবেশী নিরিহ সরকারি কর্মচারী জুবের আহমদ সাকুর বাউন্ডারির উপরেই নিজের অবৈধ এই ভবনের দেওয়াল নির্মাণ করে ফেলেন। নির্মাণকালীন সময়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে বাধা প্রদানের চেষ্টা করেন জুবের আহমেদ সাকু। তিনি স্থানীয় কাউন্সিলার তুহিন, সিসিকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হলেও কোন প্রতিকার পাননি। কারণ সে সময় এই বশিরকে সব রকম অবৈধ কাজের সেন্টার দিতেন আওয়ামী লীগের সাকেব কাউন্সিলার আজাদুর রহমান আজাদ ও রঞ্জিত সরকার সহ প্রভাবশালী অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তুহিনও ছিলেন বশিরের কাছে অসহায়। তাই সকল নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া কুখ্যাত এই মানব পাচারকারী বশির আহমদ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নকশা বহির্ভূত ভাবে এই ভবন নির্মাণ করেন। এমনই অভিযোগ করেছেন শিবগঞ্জ লামাপাড়া (খন্ডিকরপাড়া) ১১৪ নং বাসার বাসিন্ধা সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী শেখ মরহুম ওয়াহিদ উল্লাহর ছেলে জুবের আহমদ সাকু। ভুক্তভোগী মোঃ জুবের আহমদ (সাকু)। ভুক্তভোগী সাকু এখন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। কিন্তু বশির এর কাছে তিনি একরকম অসহায় হয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সাকু বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনিও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন এই বশির আহমদ চক্রের দ্বারা। হয়েছেন একাধিক মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলার শিকার। প্রতিটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে পাশাপাশি বশির আহমেদ যে জালিয়াতি করেছেন তার সত্যতা পায় পুলিশ। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই বশির আহমেদের বিরুদ্ধে কোনরকম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সাহস পায়নি পুলিশ প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট মহানগরীর ১১২/এ মোহিনী লামাপাড়া (খন্ডিকরপাড়ার) মৃত আনছার আলীর ছেলে বশির আহমদ তার ‘নিশি মঞ্জিল’ নামক ৩ তলা ফাউন্ডেশনের ভবনটি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ অমান্য করে নির্মাণ করেছেন। ভবনটির উত্তর, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্বাংশ ও পশ্চিমাংশ অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভুক্তভোগী জুবের আহমদের বসত ঘরের সীমানা প্রাচীরের ওপর তৈরি করা হয়েছে। যা নিয়ে জুবের আহমদ সাকু নিজে সিসিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন। বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া ভুক্তভোগী জুবের আহমদ সাকুর আবেদনের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নিয়মিতভাবে নির্মিত বশির আহমেদের ভবনটি পরিদর্শন করে নকশাবহির্ভূত নির্মাণের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে অবৈধ অংশ অপসারণের জন্য সিসিক থেকে পর-পর তিনবার নোটিশ প্রদান করা হয় (যার মধ্যে স্মারক নং-১৪৬৬, ১৬/১২/২০ এবং স্মারক নং-৫৯১, ০৪/০৭/২০২৩ উল্লেখযোগ্য)। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সিসিকের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। বশির আহমেদ নিজের অবৈধ টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিয়েছেন। এমন কি সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আহমদ জুবের আহমদ সাকুর করা একাধিক আবেদন ফাইল। সিসিকের তদন্ত প্রতিবেদন সবকিছুই গায়েব করে দিয়েছেন বশিরের কাছ থেকে বড় করে টাকা নিয়ে। এই বেলাল কে খোঁজতে পরপর দুইদিন আমার সিলেট সিটি কর্পোরেশনে তার অফিসে গিয়েও পাইনি। তবে নাম প্রকাশে অনেকেই অভিযোগ করেন, টাকা পেলে সিসিকের এই সহকারি প্রকৌশলী এমন কোন কাজ নেই যা তিনি করতে পারেন না। বেলালের নানা রকম অপকর্মের বিরুদ্ধে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ভুক্তভোগী জুবের আহমদের অভিযোগ, সিসিকের তৎকালীন চীফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমান, বর্তমান চীফ ইঞ্জিনিয়ার আলী আকবর, রাজি উদ্দিন খান, আলী আকবর এর অফিসে সাব সহকারি প্রকৌশলী বেলাল আহমদ এবং ডিলিং সহকারি সাইফুল ইসলাম ও দীপক বাবুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অসাধু একটি সিন্ডিকেট রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের। যারা যারা বশির আহমদের মত অবৈধ ইমারত ও বাসা বাড়ি নির্মাণকারীদের খুঁজে বের করে তাদের সাথে আর্থিক চুক্তি মাধ্যমে এসব ফাইল ধামাচাপা দিয়ে থাকেন। যেমনটি বশির আহমেদ তাদের সাথে গোপন আঁতাত করে নিজের অবৈধ ভবনটি আজ পর্যন্ত ঠিকিয়ে রেখেছেন। আমার অনুসন্ধান বলছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় হাজারও অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসা বাড়ি টিকে রয়েছে এ সকল অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। কারণ সিটি কর্পোরেশন থেকে পরপর তিনবার অবৈধ ইমারতটি অপসারণের নির্দেশ দিলেও সিসিকের নোটিশ এবং আদালতের নির্দেশনা কোন পাত্তাই দিচ্ছে না মানব পাচারকারী বশির আহমদ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সিসিক থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না মানবপাচারকারী বশির আহমদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবার আরো জানায়, অবৈধ ভবন নির্মাণের জেরে বশির আহমদ ও তার প্রভাবশালী চক্র সরকারি এই কর্মচারী জুবের আহমদের কাছে উল্টো ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুবের আহমদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে বশির আহমদচক্র। কিন্তু প্রতিটি মামলাই বশিরের বিপক্ষে যায়। পুলিশী তদন্তে আর বার উঠে আসে মিথ্যা মামলা ও বশিরের অবৈধ ভবন নির্মাণের বিষয়টি শুধু তাই নয়, অতীতে এই ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া জুবের আহমদ সাকু পরিবারের উপর হামলা করে বসির ও তার ছেলেরা। এরকম একটি হামলায় জুবায়ের আহমদের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ৭ মাসের গর্ভপাতের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও শাহপরান থানার পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। স্থানীয় কেউই বশির আহমেদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা সাহস পান না। কারণ প্রতিবাদ করলেই এলাকাবাসীর কে মিথ্যা মামলা শিকার হতে হয়। পাশাপাশি তো রয়েছে হামলার আশঙ্কা। মানব পাচারকারী বশির আহমদ ছিলেন এই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য। তার ছেলে মিজানুর রহমান মিজান, মঞ্জুর রহমান মনজুর, সাইদুর রহমান সকলে ছিলেন সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আজাদ রঞ্জিত গ্রুপের সক্রিয় ক্যাডার। তাই আওয়ামী লীগ আমলে জুবের জুবের আহমদ সাকু অভিযোগ নিয়ে যেখানে গেছেন, সেখানেই বাধার সম্মুখিন হয়েছেন। কেউ তার আর্তনাদ শুনেনি। এদিকে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই বশির আহমদের জায়গা জবর দখল ও সীমানা প্রাচীরের ওপর অবৈধ নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জুবের আহমদের বিরুদ্ধে বশিরের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলাগুলো মিথ্যা ও সাজানো বলে পুলিশি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু জুবের আহমদ সাকু নিজের বসত ঘর রক্ষা করতে গিয়ে মাঝ পথেই জীবনক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। হয়রানী মামলা আর হামলা আর হুমকির যন্ত্রণায়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে ভবনটির অবৈধ অংশটি জরাজীর্ণ অবস্থায় জুবের আহমদের বসতঘরের ওপর ঝুলে রয়েছে। এ কয়েকবারের ভূমিকম্পের ফলে বশির আহমেদের অবৈধ ভবনটি সরকারি এই কর্মচারী জুবের আহমদ সাকুর বসত করে উপরে হেলে পড়েছে যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙ্গে পড়তে পারে সাকু ঘরের উপর। এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী জুবের আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সরকারের একজন কর্মচারী হয়েও সুবিচার পাচ্ছি না। স্ত্রী ও সন্তান হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে প্রতিদিন মাথার ওপর ঝুলন্ত ছাদ আর মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে।”এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমি ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদনও করেছেন। এর আগেও অন্তবর্তিকালীন সরকারের সময়েও আমি প্রধান উপদেষ্টাসহ প্রায় প্রতিষ্টিত দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দেই। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ মানব পাচারকারী বশিরের বিরুদ্ধে দুদকের লিখিত অভিযোগ করি এই অভিযোগটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে। কবে ব্যবস্থা নিবে সিটি কর্পোরেশন তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। বিষয়টি আমার অফিসের জেলা প্রশাসক সরোয়ার আলম স্যারকেও আমি অবহিত করেছি।
কে এই কোটিপতি বশির আহমদ ? অনুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো তথ্য মিলেছে ভবন মালিক বশির আহমদের বিরুদ্ধে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রত্যন্ত হাওড়বেষ্টিত ইনাতআলী পুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী বশির আহমদ বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। স্থানীয়দের মতে, ট্রাভেলস ব্যবসার আড়ালে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের মাধ্যমেই তিনি এই বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। অবৈধ টাকার জোরে এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছেন। বশিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানব পাচারের সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। ২০১৯ সালের মে মাসে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ৩ জন বাংলাদেশী নিখোঁজ ও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। নিখোঁজদের মধ্যে বশিরের নিজ গ্রামের মো. লেচু মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমানও ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইতালি পাঠানোর নাম করে জিল্লুরসহ বেশ কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নেন বশির ও তার সহযোগীরা। প্রথমে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার পর যুবকদের লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ নামক একটি অন্ধকার, তালাবদ্ধ ও নোংরা ঘরে আটকে রাখা হতো। সেখানে প্রতিদিন মাত্র একটি রুটি দিয়ে তাদের ওপর চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন। অতিরিক্ত খাবার চাইলে পুরো ঘরকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অনাহারে রাখা হতো। পরবর্তীতে নির্যাতনের ভিডিও দেশে পরিবারকে দেখিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে আরও টাকা আদায় করা হতো। এই ঘটনায় নিহত জিল্লুরের পিতা মো. লেচু মিয়া বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালী থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৩৩, তারিখ: ১৯/০৫/২০১৯)। এই মামলায় সিআইডি এর রিমান্ড অবস্থায় বশির আহমদ যুবকদের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা আদায়ের কথা স্বীকারও করেছিলেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। আইন অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত বশির আহমদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ ভবনটি অপসারণ করা হোক এবং অপরাধী চক্রসহ তাদের সহায়তাকারী সিসিকের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় যেকোনো বড় দুর্ঘটনার দায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এড়াতে পারবে না।প্রকৌশল বিভাগের বক্তব্য ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ: ভবনটির অবৈধ অংশ উচ্ছেদে দীর্ঘ এক দশকের বিলম্ব এবং একাধিক নোটিশের পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সিসিকের প্রকৌশল বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ২০২১ এবং ২০২৩ সালে কয়েক দফায় নোটিশ জারি করে নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভবন মালিক আইনি জটিলতা বা আপিল প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে সিসিকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে ভবন মালিকের গোপন আঁতাতের অভিযোগটি সত্য নয়। আমরা নিয়ম অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”সিসিকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের আমলের উদাসীনতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ফাইল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেহেতু পিবিআই ও পুলিশের তদন্তে সীমানা প্রাচীর ও নকশা লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাই বিষয়টি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। সিটি কর্পোরেশন কখনোই কোনো অবৈধ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাকে প্রশ্রয় দেবে না। দ্রুতই একটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ অংশ উচ্ছেদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যাখ্যা, এলাকাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সিসিক এলাকায় হাজার হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে নকশা বহির্ভূত ভবন চিহ্নিত করার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, “বশির আহমদের ভবনটি ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬’ লঙ্ঘন করেছে, এটা আমাদের তদন্তে প্রমাণিত। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটি যেহেতু জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে,তাই আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি আইনগত ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।”বর্তমান প্রশাসক বলেন, বর্তমান পরিষদ যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। যদি সিসিকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর (যেমন ডিলিং সহকারি বা প্রকৌশলী) বিরুদ্ধে অবৈধ ভবন মালিককে সুবিধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে ভবনটি আইন অমান্য করে তৈরি করা হয়েছে এবং একে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে উচ্ছেদে বিলম্ব হলেও, দ্রুতই সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. ফিরোজ আহমেদ মোল্লা
নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হালিম সাগর
প্রকাশক কর্তৃক বি,এস, প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়েনবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ৮৭ পুরানো পল্টন টাওয়ার, পুরানো পল্টন লেন থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয় কার্যালয়: ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক-০১৭১৫৬৯৩৭৫৩, ০১৩১৩৮৪৬৫২৫, নির্বাহী সম্পাদক: ০১৭২২-০৬২২৭৪। E-mail: dailyporzobekkhonbd.com